ইয়ামিন হোসেন, ভোলা:ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাচড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত এবং কয়েকটি দোকান ও বসতঘর ভাংচুর লুটপাট করা হয়েছে। গত রবিবার (২৫শে জুন) দুপুরে থেকে বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় এসব ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় করা মামলায় তিননারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচজন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে বিরাজ করছে।
২৬শে জুন দুপুরে সরজমিন চাচড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান বাজার ও সাবেক চেয়ারম্যান হান্নান মিয়ার বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় সব লণ্ডভণ্ড, হান্নান চেয়ারম্যানেরসহ তার আত্মীয়-স্বজনদের ঘর ভাঙচুর করে সব লুটপাট করেছে হামলাকারীরা। একই চিত্র দেখা যায় হান্নান চেয়ারম্যান বাড়ী সংলগ্ম চেয়ারম্যান বাজারের ও। হামলাকারীদের নির্মমতা থেকে রক্ষা পায়নি মসজিদের মুয়াজ্জিনের ছোট একটি চায়ের দোকানও।
স্থানীয়রা জানান, রবিবার বেলা ১১টার দিকে চাচড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো. রিয়াদ হোসেন আবদুল হান্নানের বাড়িতে একটি মামলার বিষয়ে খোঁজ নিতে যায় পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে বর্তমান চেয়ারম্যান আবু তাহের মিয়ার সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আবদুল হান্নানের সমর্থকেরা পুলিশ ও বর্তমান চেয়ারম্যানদের সমর্থকদের বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের সংঘর্ষে জড়ান। এতে বর্তমান চেয়ারম্যানের কয়েকজন সমর্থক আহত হন। ঘটনার জেরে রিকশায় যাওয়ার পথে ওইদিন বেলা ৩টার দিকে সাবেক চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মিয়ার মেয়ে স্কুলশিক্ষিকা মোহনা আক্তারের পথ আটকে লাঞ্ছিত করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বর্তমান চেয়ারম্যানের কয়েক শতাধিক কর্মী–সমর্থক আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়িতে ও এলাকায় হামলা চালিয়ে লুটপাট ভাংচুর করেন।
হান্নান চেয়ারম্যান এর চাচাতো ভাই মাকসুদ আলম বলেন, আমরা ভোলা-৩ আসনের আওয়ামীলীগ এর মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু নোমান হাওলাদার এর সমর্থক হওয়ায় বর্তমান এমপি নুরনবী চৌধুরী শাওন এর সমর্থক তাহের চেয়ারম্যান এর নেতৃত্বে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে আমাদের বাড়ীঘরে হামলা, ভাংচুর করেন। নুরজাহান বেগম নামের এক নারী বলেন, পুলিশের সামনেই তাহের চেয়ারম্যান এর লোকেরা আমাদের সব ভাংচুর করে নিয়ে গেছে। আমরা এখন জীবন নিয়ে শঙ্কিত আছি বলেও জানান ওই নারী।
নিরব হোসেন নামের এক যুবলীগ কর্মী বলেন, আমরা নোমান হাওলাদার এর লোক এটাই আমাদের অপরাধ। যার জন্য আমাদের উপর হামলা করে, আমাদের বাড়ীঘর ভাঙচুর করে আবার উল্টা আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানী করছে।
হান্নান চেয়ারম্যান এর ভাতিজা বলেন, ২০০১ সাল এর বিএনপি জামাত কে ও হার মানিয়েছে আমাদের বাড়ীর ঘটনা। পুলিশের সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাহের চেয়ারম্যান এর নেতৃত্বে আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে। আমাদের অপরাধ আমরা নোমান হাওলাদার এর সমর্থক।
সাবেক চেয়ারম্যান মো. রিয়াদ হোসেন আবদুল হান্নান বলেন, আমি ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদারের সমর্থক। এ জন্য একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে ও আমার লোকজনকে হয়রানি করছে। তিনি বলেন, আমার বাড়ীঘরে হামলা করলো, আমার সমর্থকদের দোকানপাট লুট করলো তার পরেও পুলিশ উল্টা আমার ছয় সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে বর্তমান চাচড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তাহেরের সমর্থকেরা তাঁর বাড়িতে দুইবার হামলা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে আবু তাহের চেয়ারম্যান এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ত বলে ফোন কেটে দিয়েছে।
তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুর রহমান মুরাদ বলেন, এ ঘটনায় ফিরোজ মেম্বার নামে এক ব্যক্তি হান্নান চেয়ারম্যান কে প্রধান আসামী করে ৪৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে যার নং -১০।
এ মামলায় ৬ জন কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি তবে পুলিশের উপস্থিতিতে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওসি।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি